ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যবসা ও ব্যবসায়ীর গুরুত্ব

ভুমিকা: মানুষ আল্লাহর বিশেষ সৃষ্টি। তারা একে অপরের উপর অনেক ক্ষেত্রেই নির্ভরশীল। আল্লাহপাক মানুষকে পণ্য ও সেবা ক্রয় বিক্রয়ের মাধ্যমে বিনিময়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ধরণের লেনদেনের ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সমাধা করা যায় এবং উৎপাদনশীল কওে তোলে। প্রত্নতাত্বিকদের ধারণা- খ্রীষ্ট জন্মের চার হাজার বছর আগে উরুক, উর ও এরুদুলামা নামক তিনটি নগর রাষ্ট্রে ব্যাবসা প্রচলিত ও তীব্র প্রতিযোগিতা বিদ্যমান ছিল। এ রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান ছিল বর্তমান ইরাকের দক্ষিনাঞ্চলে। ব্যবসা এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের তাগিদে মানুষ যেদিন নিজ নজি ভুখন্ড ছেড়ে অণ্য ভুখন্ডের আঙ্গিনায় প্রবেশ করেছে সেদিনই একদিকে যেমন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হয়েছে তেমনি আবার সেদিনই সূত্রপাত হয়েছিল সংকটের। এমনি সংকট ও সম্ভাবনার মাঝে ভারসাম্য আর ভারসাম্যঞীনতার দোলায় ব্যবসায়িক সভ্যতা সামনে এগিয়েছে আপন গতিতে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে তৎকালীন আরবে বহুধরণের লেনদেন ও জিনিষপত্র বিনিময়ের পদ্ধতি প্রচলিত ছিল।রসূল (স.) এসবের আনেকগুলো অনুমোদন করেছেন আবার শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক পদ্ধতিগুলো নিষেধ করেছেন। নিষেধের কারণগুলি ছিল সুনির্দিষ্ট ও সুসংজ্ঞায়িত। যেমন- হারাম দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়-উৎপাদন, অনিশ্চিত- সন্দেহযুক্ত ও অনির্দিষ্ট ক্রয় বিক্রয়। মূল্য কারসাজি, অযৌক্তিক মূল্য নিয়ন্ত্রন, মজুতদারী, অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্ত্বভোগী ইত্যাদি।
ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের প্রতি নির্দেশনাঃ পৃথিবীতে বসবাস করার জন্য, জীবিকা অন্বেষনের জন্য ইসলাম মানুষকে কিছু কাজ করার অনুমোদন দিয়েছে, কিছু কাজ করার তাগিদ দিয়েছে। ব্যষ্টিক পর্যায়ে অনুমোদিত কাজ গুলো মানুষ করবে। সামষ্টিক পর্যায়ে তাগিদ দেয়া ব্যাপারগুলো মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালাবে। খাবার, ক্রয়-বিক্রয়, সম্পত্তির মালিকানা অর্জন, পন্য ক্রয়-বিক্রয়, উৎপাদন, বন্টন, বিনিয়োগ, কৃষি , ঋণ গ্রহন ও প্রদান, মুদ্রার বিনিময়, কর্মগ্রহন, কোম্পানী গঠন, আমদানী, রপ্তানী, সম্পত্তির হস্তান্তর ইত্যাদি আরো বহুবিদ কাজ ব্যক্তি বা সামষ্টিক পর্যায়ে মানুষ কওে থাকে। কেন? প্রশ্নের সহজ জবাব জীবিকার প্রয়োজনে। এসবের অধিকাংশ কাজই ব্যবসার পর্যায়ে পড়ে। মানবকুল শিরোমনি, সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, জগতের শ্রেষ্ঠ প্রশাসক হযরত মুহাম্মদ স. নিজে ব্যবসা করেছেন এবং বলে গিয়েছেন শতকরা নব্বই ভাগ রিযিক ব্যবসার মধ্যে নিহিত। আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি রিযিক অন্বেষনের তাগিদ এসেছে। জীবিকার প্রশ্নে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা শুধু বলে দিয়েছেন ” হে মানুষ সকল পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু সামগ্রী ভক্ষণ কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করোনা, সে নি:সন্দেহে তোমাদেও প্রকাশ্য শত্র“” বাকারা-১৬৮। হারাম দ্রব্য, পশু ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় খাওয়াই শুধু নিষেধ নয়, ক্রয়-বিক্রয় কোনটিই জায়েজ নয়। এটি ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে নির্দেশনা দিয়ে কোরআন বলছে- “তোমরা অন্যায় ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করোনা এবং জনগনের সম্পদেও কিয়দংশ জেনে- শুনে পাপ পন্থায় আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে শাসন কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিওনা।” বাকারা-১৮৮। ব্যবসার নামে কোন প্রকার সুদ চালু করা যাবেনা। আল্লাহ বলেন “যারা সুদ খায় তারা কেয়ামতের দিন দন্ডায়মান হবে শয়তানের আসওে মোহাবিস্টদের মত। কারন তারা বলে ক্রয়- বিক্রয়(ব্যবসা) ওতো সুদের মত। অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।” বাকারা-২৭৫। “আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবয় দান খয়রাতকে বর্ধিত করেন।” বাকারা-২৭৬। রসুল স. বলেন “ সুদ যদিও বৃদ্ধি পায় কিন্তু এর শেষ পরিণতি হচ্ছে স্বল্পতা।” -মুসনাদে আহমদ ইবনে মাজাহ। বৃক্ষস্থিত ফলকে বৃক্ষ হতে আহরিত ফলের বিনিময়ে অনুমান করে বিক্রি করাকে মুযাবানা বলে। বিভিন্ন ধরণের মুযাবানা বর্তমানেও প্রচলিত আছে। ক্ষেতে অকর্তিত খাদ্য শস্য যথা গম, বুট ইত্যাদিকে শুকনা পরি¯কার করা খাদ্য যথা গম, বুট ইত্যাদির বিনিময়ে অনুমান করে বিক্রি করাকে মুহাকালা বলে। সুদের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর রসুল স. এগুলোকেও সুদেও অন্তর্ভুক্ত করে দেন।-[ইবনে কাসীর] ব্যবসায়িক যে কোন লেনদেন ও কারবারের ক্ষেত্রে আল্লাহ পাক সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। “হে মুমিনগন যখন তোমরা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণের আদান প্রদান কর, তখন তা লিপিবদ্ধ কওে নাও এবং তোমাদেও মধ্যে কোন লেখক ন্যায় সঙ্গত ভাবে তা লিখে দিবে।; … দুজন স্বাক্ষী কর, … -বাকারা-২৮২। লেনদেন যদি সুদ সংক্রান্ত হয় তবে হাদীসে এসেছে- “হযরত যাবের ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রসুল স. সুদ গ্রহন কারী, প্রদানকারী, হিসাবকারী এবং স্বাক্ষী সকলের প্রতি অভিশাপ দিয়েছেন। এবং তিনি বলেন তারা সকলেই সমান। [মুসলিম শরীফ] এক হাদীসে আছে তিন ব্যাক্তি এমন আছে যাদের প্রতি আল্লাহ কেয়ামতের দিন রহমতের দৃষ্টি দেবেন না এবং তাদের জন্য যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি থাকবে। এক. মধ্যবয়সী ব্যভিচারী লোক দুই. অহংকারী ফকির তিন. এ ব্যক্তি যে বেচাকেনার সময় সর্বদা কসম খাইতে থাকে; কসম খেয়ে খরিদ করে আর কসম খেয়ে বিক্রয় করে। অপর এক হাদীসে আছে তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ ঘৃণা করেন ১. কসম খোর ব্যবসায়ী ২. অহংকারী ফকির ৩. দান করে যে খোটা দেয়। [জামে সগীর]
ব্যবসার জটিল মারপ্যাচে অন্যের মাল হরণ করা হারাম। আল্লাহ বলেন“ হে ঈমানদারগন তোমরা একে অপরের মাল অন্যায়ভাবে গ্রাস করোনা। কেবলমাত্র তোমাদেও পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ।- আন নিসা ২৯।হাদীসে এসেছে একটি ব্যবসায়িক লেনদেনে উভয় পক্ষই খুঁতসহ পণ্যেও সঠিক বর্ণনা দিতে হবে। ইসলামের বিজনেস কন্ডাক্ট সম্পর্কে হযরত যাবির রা. বর্ণনা করেন এভাবে-“রসুল সু বলেছেন আল্লাহ তার প্রতি দয়া বর্ষন করুক যে বিক্রির সময়, ক্রয়ের সময় এবং অভিযোগের সময় সদয় থাকে[বুখারী]
হযরত শোয়াইব (আ.) যে নীতি বর্ণনা করেন কোরআন তা তুলেছে এভাবে- “হে আমার কওম! আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ছাড়া আমাদের কোন মাবুদ নাই। আর পরিমাপে ও ওজনে কম দিওনা।” সূরা হুদ-৮৪। “ আর হে আমার জাতি ন্যায় নিষ্ঠার সাথে ঠিকভাবে পরিমাপ কর ও ওজন দাও এবং লোকদেও জিনিষপত্রে কোনরূপ ক্ষতি করোনা।” সূরা হুদ-৮৫। অন্য জায়গায় আল্লাহ বলেন “মেপে দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে দেবে এবং সঠিক পাল্লায় ওজন করবে। এটা উত্তম; এর পরিণাম শুভ” বনী ঈসরাইল-৩৫।
ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের গুরুত্বঃ
মুমিন ব্যবসায়ীদের গুণাগুণ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন- এমন লোকেরা, যাদেরকে ব্যবসা বানিজ্য ও ক্রয় বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামায কায়েম করা থেকে এবং যাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখেনা। তারা ভয় কওে সেদিনকে, যেদিন অন্তও ও দৃষ্টি সমূহ উল্টে যাবে। – তারা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কওে, যাতে আল্লাহ তাদেও উৎকৃষ্টতর কাজের প্রতিদান দেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও অধিক দেন। আল্লাহপাক যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান করেন।” সূরা আন নূর-৩৭, ৩৮।
ব্যবসা ব্যবসায়িদের জন্য দুই ধরণের লাভ আনবে।- ১. অর্থ আকারে, যদিও কেউ কেউ ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ২. আখেরাতে উত্তম পুরস্কার। অর্থ আকাওে ব্যবসায়ের লাভ অর্জিত হওয়ার ব্যাপাওে কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়না। কিন্তু আখেরাতের উত্তম পুরস্কার বিষয়টি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। ব্যবসা আল্লাহর রাহে আত্মসমর্পণের কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। ব্যবসা তাকওয়া অনুশীলনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। নামায যেমন একটি বিশেষ উপলক্ষ, যার মাধ্যমে আমরা আমাদেও অতীত কর্মকান্ডের পোস্টমর্টেম করি, আনুগত্যেও নবায়ন করি, আল্লাহর খাটি বান্দা হওয়ার জন্য বেচে থাকার আশা করি, তাকওয়ার প্রার্থনা করি এবং সাহায্য চাই। অন্যদিকে ব্যবসা আল্লাহর দেয়া শরীয়তের কার্যক্রমের অংশ এবং ব্যাপক ও বিস্তৃত অর্থে অনুরূপ ইবাদতের শামিল। যদি আমরা আমাদেও ব্যবসায়িক কাজ আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী করতে পারি তবে যতদিন/ যতক্ষণ এ কাজ করব তা সুন্নত ও নফল নামায/ রোযার চেয়ে অধিক সওয়াবের কাজ হবে। এটি প্রমান হবে যে আমাদেও প্রচেষ্টা ও কাজ কর্ম নফসের খারাপ প্রবণতার বিরুদ্ধে জয়ী হচ্ছে যা আল্লাহ পচন্দ করেন।
অতএব ইসলামে ব্যবসা ও ব্যবসায়ীর গুরুত্ব তালিকা করলে বিষয়টি এমন হবেঃ
১. তেজারত বা ব্যবসা বা ক্রয় বিক্রয় বিভিন্ন প্রতিশব্দ মিলিয়ে ব্যবসা প্রসঙ্গটি কোরআনে ৩৭০ বার এসেছে। এ থেকে ব্যবসার গুরুত্ব উপলব্দি করা যায়।
২. ব্যবসা করে গ্রাহকের কাছ থেকে আমরা শুধু লাভ করছি তা নয় বরং আমরা তাদের জিনিষ ও সেবা প্রদান করছি। এটি নবীদের সামাজিক কর্মসূচীর মত। রসূল স. বলেছেন সত্যবাদী ও বিশ্বাসী ব্যবসায়ীগন বিচার দিবসে নবী, ওলী ও শহীদদের সাথে অবস্থান করবে। [তিরমিযি]
৩. যদি আমরা যৌক্তিক লাভ করে থাকি এবং মনোপলি না করি তবে সমাজের জন্য এটি একটি বড় সহায়তা। ভাল জিনিষ যৌক্তিক দামে প্রদান করায় সমাজের মানুষ সন্তুষ্ট হবে, তাতে আল্লাহ আমাদেও উপর সন্তুষ্ট হবেন। হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল রা. বর্ণনা করেন, রসূল স. এরশাদ করেছেন সর্বাপেক্ষা পবিত্র রোযগার হচ্ছে ব্যবসায়ির রোযগার। তবে শর্ত হচ্ছে তারা যখন কথা বলবে মিথ্যা বলবে না, কোন আমানতের খেয়ানত করবে না। কোন পণ্য ক্রয় করার সময় সেটাকে মন্দ সাব্যস্ত কওে মূল্য কম দেয়ার চেষ্টা করবে না। নিজের মাল বিক্রয় করার সময় সে মালের অযথা তারিফ কওে ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করবে না। তার নিজের নিকট অন্যের ধার থাকলে পাওনাদারকে অযথা ঘুরাবে না। অপরপক্ষে সে কারো কাছে কিছু পাওনা হলে তাকে উত্যক্ত করবে না। [ইসফাহানী, তাফসীওে মাযহারী]
৪. যখন ব্যবসায়ী ও গ্রাহক উভয় পক্ষ অনুভব করবে আমরা উপকৃত হয়েছি তখন সেখানে একটি হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরী হবে। ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা বন্ধ হয়ে যাবে। যা একটি সুগঠিত সমাজের জন্য প্রয়োজন। এতে উভয় পক্ষই পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার সওয়াব পাবেন।
৫. মানব জাতির ধৈর্যশীল হওয়ার চেষ্টা করা উচিৎ। এতে মানুষ ধার্মিক হবে। এটি কি খুব ভালো নয় যে যদি আমরা অপর বাইকে অগ্রাধিকার ও সুযোগ দিই এবং অন্যরা পেলে আনন্দ বোধ করি। আল্লাহ এটি ব্যর্থ করবেন না। বাস্তবে এটি অনেকেই পারিনা। কিন্তু ব্যবসায় এটি সম্ভব। গ্রাহকের সাথে লেনদেন ও ডিলিং করতে গিয়ে তিক্ততা তৈরী হতে পারে। এক্ষেত্রে ধৈর্য্যশীল হওয়া প্রয়োজন। আবার অতিরিক্ত লাববান না হওয়ার ব্যাপারেও ধৈর্য্যশীল হতে হবে। এতে ধৈর্য্যশীলতার পুরস্কার পাওয়া যাবে।
৬. ইসলাম ক্ষমা ও মেনে নেয়ার ধর্ম। যদি কারো কোন বিষয় বা আচরণ গ্রহন যোগ্য মনে না করেন কিন্তু তারপরও যদি ক্ষমা করেন তবে আপনি শুধু ব্যবসায়িক সেওজন্যতাই রক্ষা করলেন না বরং ইসলামের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও অর্জন করলেন। ব্যবসার ক্ষেত্রে যে বিষয় বা ব্যক্তি আমাদের অসুবিধাজনক অবস্থার মুখোমুখি করে আমরা তার এনকাউন্টার দিয়ে থাকি। আমাদের নিজেদের কি ব্যবসায়িক ভুল হতে পারে না, যাতে আমরা প্রত্যাশা করি অন্যরা ক্ষমা করবে?
৭. ব্যবসায়িদের খুশি হওয়া উচিৎ যে তারা অন্যের জন্য চাকুরীর সুযোগ সৃস্টি করেন। একজনের চাকুরী হওয়ার অর্থ হচ্ছে একটি বেকারত্ব কমল, একজনের হালাল আয়ের পথ প্রশস্ত হল, রাষ্ট্রের মানব সম্পদের উন্নয়ন ঘটল। এ সবই ইসলামের নির্দেশ। প্রকৃতপক্ষে ব্যবসায়ের মধ্য দিয়ে মানব জাতির কল্যান তথা উখরে জাত লিন নাসের আমল হয়।
৮. যখন মুসলমানদের ব্যবসা ব্যাপকভাবে প্রসার ও প্রতিষ্ঠিত হবে তখন আমরা ইসলামের প্রতিচ্ছবি ও প্রতীকের বিস্তৃতি দেখতে পাব। এতে একজন ব্যবসায়ী ইসলামের দাঈ বা দাওয়াতদাতার সওয়াব ও মর্যাদা লাভ করবেন।
৯. যখন আমাদেও ব্রবসার লাভের কারনে নেসাব পরিমান সম্পত্তির মালিক হব তখন ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি যাকাতের আমল আমাদের দ্বারা পালন হবে। এর মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন হবে। ধনী ও গরীবের মাঝে সেতু বন্ধন রচনা হবে।
১০. ব্যবসার আরেকটি লাভ হলো অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জন। ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন, গ্রাহক ডিলিং, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বহুবিধ আকার ও ধরণে অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়। আমরা স্থান, পণ্য, জনগন, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ইত্যাদি অনেক বিষয়ে জানতে পারি। এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জীবনকে সমৃদ্ধ করে, ব্যবসায়িক পরিধির বাইরেও তা কাজে লাগে। এজাতীয় জ্ঞান অর্জন করার ব্যাপারে ইসলামের তাগিদ আছে।
১১. যারা ইসলামকে ভালোবাসে ব্যবসা তাদের জন্য আল্লাহর পথে সংগ্রাম করার একটি উপায়। তারা একই সময়ে দুনিয়া ও আখেরাত দুই ক্ষেত্রে লাভ অর্জন করতে পারে। তারা বস্তু ও আত্মা দুটির মাঝে সমন্বয় ঘটাতে পারে।
১২. কোরআনে যেভাবে বিভিন্ন কোড দেয়া হয়েছে। যেভাবে ব্যবসায়িক নিয়ম কানুন বাতানো হয়েছে তাতেই ব্যবসার গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়।
১৩. হজ্জ্বের সময় ব্যবসার অনুমোদন প্রমান করে ব্যবসা কত গুরুত্বপূর্ণ।
অতএব এত গুরুত্ব ও মর্যাদাপূর্ণ একটি প্রত্যয় ব্যবসা যারা পরিচালনা করবেন সে ব্যবসায়িদের কমিটমেন্ট ও সততা হল প্রধান বিষয়।

Tagged with:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*