সুলতানি আমলের বাংলা ; ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল

প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন নৃতাত্তি¡ক জনগোষ্ঠীর বসবাসের বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। প্রাচীন জনপদগুলোর মধ্যে ‘ভাঙ্গা, পুন্ড্র, রাধা, গৌড়, লাখণৌত’ ইত্যাদি প্রধানতঃ বিশুদ্ধ তথা বাংলার উল্লেখযোগ্য জনপদ। ১২০৪ সালে বখতিয়ার খলজির নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়। তবে তিনি নিজের জন্য সুলতান উপাধি গ্রহণ করেননি। বরং তিনি মুহাম্মদ ঘুরীর নামে মুদ্রা চালু করেন। ইসলামের প্রাথমিক যুগে সাহাবায়ের ক্বেরামের মাধ্যমেই বাংলায় ইসলামের বীজ বপিত হয়।
ভারতে মুসলমানদের শাসন শুরু হয় ৭১২ সালে মুহাম্মদ বিন কাশিম এর সিন্ধু জয়ের মাধ্যমে। ১২০৪-১২২৭ সাল পর্যন্ত বাংলায় খলজি শাসন চলে। ১২২৭-১২৮১ সাল পর্যন্ত দিল্লীতে মামলুক সালতানাতের অধীনে ১৫ জন প্রাদেশিক শাসক এখানকার দায়িত্বে ছিল। মধ্য এশিয়ার তুর্কি সেনাপতি কুতুব উদ্দিন আইবেকের সময় মামলুকগণ উত্তর ভারতে আসেন। ভারতে মামলুকগণ ১২০৬-১২৯০ পর্যন্ত শাসন চালায়। দিল্লী সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে বিবেচনা করা হয় সামছুদ্দিন ইলতুতমিশকে (১২১০-১২৩৬)।
১২১০ সালে আলী মর্দান খল্জি বাংলায় সুলতান উপাধি গ্রহণ করেন। ১২১২ সালে শাসন শুরু করেন ইওজ খল্জি। তিনি উন্নয়ন অর্থনীতির ধারণা চালু করেন। প্রথম বাংলায় নৌবাহিনী গঠন করেন। নিজের নামে মুদ্রা চালু করেন। ১২২৫ সালে সন্ধি হলেও তিনি স্বাধীন থাকার চেষ্টা করেন। ১২২৭ সালে ইলতুতমিশ বিহারকে বাংলা হতে আলাদা করে। শাহজাদা নাসির উদ্দিন ১২২৯ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন। বাংলার পরবর্তী শাসক হন আলাউদ্দিন দৌলত শাহ খল্জি (১২২৯-১২৩০)। ইখতিয়ার উদ্দিন বলকা খলজী তাকে ক্ষমতাচ্যুত করলে ইলতুতমিশ বাংলায় অভিযান চালিয়ে ১২৩১ সালে বলকা খলজীকে হত্যা করেন এবং আলাউদ্দিন জানিকে শাসক নিয়োগ করেন। ৩ বছর পর আলাউদ্দিন জানি স্বাধীনতা ঘোষণা করলে তাকে সরিয়ে সাইফুদ্দিন আইবেককে বসানো হয়। শীঘ্রই তার মৃত্যু হলে ইজ্জউদ্দিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
১২৩৬ সালে দিল্লীতে ইলতুতমিশের ইন্তেকালের পর মাত্র ০৭ মাস শাসন করেন রোকন উদ্দিন ফিরোজ। এরপর নারী সুলতান হন রাজিয়া সুলতানা (১২৩৬-১২৪০)। এরপর বাহ্রাম শাহ (১২৪০-১২৪২) ক্ষমতা পান। পরে আমির বাহ্রাম শাহ্কে অপসারিত করে ইলতুতমিশের অপর পুত্র আলাউদ্দিন মাসুদ শাহ্কে সিংহাসনে বসায়। ১২৪৪ সালে মাসুদ শাহ্রে ভাই নাসির উদ্দিন মাহমুদ ক্ষমতায় বসেন। ১২৬৬ সালে সেনাপতি গিয়াস উদ্দিন বলবন সুলতানের আসনে বসেন। গিয়াস উদ্দিন বলবনের উন্নত চিন্তা, শক্তিশালী শাসন ক্ষমতা আর চমৎকার শিক্ষাদর্শন চতুরদিকে প্রভাব ফেলে।
এ সময় বাংলার শাসক নিযুক্ত হন আমিন খাঁ। বলবন সহকারী হিসাবে পাঠিয়েছিলেন মুঘিস উদ্দিন তুঘ্রালকে। তুঘ্রালের প্রভাবে আমিন খাঁ এর কর্তৃত্ব ¤øান হয়ে যায়। তুঘ্রাল ঢাকা, ফরিদপুর এবং ত্রিপুরা দখলের উদ্যোগ নেন। বরিশালে দনুজ রায়ের সাথে যুদ্ধে জড়ান। উড়িষ্যা আক্রমণ করে সেখানে লুটপাট করেন। এর মধ্যে সুলতান বলবনের মৃত্যুর মিথ্যা সংবাদ প্রচারিত হলে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন। ১২৮০ সালে বলবনের বাহিনী বাংলা আক্রমণ করে তুঘ্রালকে বন্দী করে এবং ১২৮৩ সালে হত্যা করে। বলবন বাংলার দায়িত্ব নিজের ২য় পুত্র বুগরা খাঁকে দেন। ১২৮৭ সালে সুলতান গিয়াস উদ্দিন বলবনের মৃত্যুর পর বুগরা খান স্বাধীন সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেন। ১২৯১ সালে বুগরা খানের ছেলে রোকন উদ্দিন কায়কাউস দায়িত্ব নেয়। রাজ্যের পরিধি বাড়তে থাকে। পরবর্তী শাসক (১৩০১-১৩২২) সামছুদ্দিন ফিরোজ শাহ সোনারগাঁ, ময়মনসিংহ ও সিলেট জয় করেন। এ সময় তিনি হযরত শাহ্জালাল ইয়েমেনী (রহঃ) এর সাথে মিলিত হন। ইসলাম প্রচার ও প্রসার এ পর্যায়ে ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ফিরোজ শাহ সোনারগাঁয়ে টাকশাল চালু করেন। ১৩০৫ সালের সোনারগাঁও টাকশালের একটি মুদ্রা পাওয়া গেছে। ফিরোজ শাহ এর একটি শিলালিপি হতে জানা যায়- তার মৃত্যুর প্রায় ১১ বছর পর ১৩৩৩ সালে সেনাপতি জাফর খাঁন দা-র উল খায়রাত নামে একটি মাদ্রাসা স্থাপন করেন। ময়মনসিংহের গিয়াসপুরে একটি টাকশালের খবর পাওয়া যায়। ফিরোজ শাহের ৬ পুত্রের মধ্যে গিয়াস উদ্দিন বাহাদুর শাহ পিতার মৃত্যুর পর ১৩২২ সালে বাংলার (লখনৌতি-গৌড়) দায়িত্ব নেন।
এর মধ্যে দিল্লীতে ক্ষমতার পালা বদল হয়। ১৩২৪ সালে দিল্লীর সুলতান গিয়াস উদ্দিন তুঘলক বাংলা আক্রমণ করে গিয়াস উদ্দিন বাহাদুর শাহকে বন্দী করে। ঐ বছরই তুঘলক পুত্র মুহাম্মদ বিন তুঘলক তাকে মুক্তি দিয়ে সোনারগাঁ এর গভর্ণর নিযুক্ত করেন। ১৩২৮ সালে বাহাদুর শাহ আবার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। মুহাম্মদ বিন তুঘলক সেনাপতি বাহ্রাম খাঁনকে অভিযানে পাঠান। যুদ্ধে বাহাদুর শাহ নিহত হলে বাহরাম খান বাংলার গভর্ণর নিযুক্ত হন। বাহরাম খান ওরফে তাতার খাঁন কোরআনের বহু তাফসির সংগ্রহ করে সোনারগাঁ এর আলেমদের সহযোগিতায় তাফসির-ই তাতারখানী নামক তাফসির সংকলণ করেন।
১৩৩৭ সালে তাতার খান ইন্তেকাল করলে বর্মরক্ষক ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন। তাঁর বৃহত্তর বাংলার রাজধানী ছিল সোনারগাঁ। ধারণা করা হয় যে, তিনি হযরত ইমাম হোসাইন (রঃ) এর বংশধর ছিলেন। প্রখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা ১৩৩৬ সালে সোনাগাঁ ভ্রমণ করেন এবং লিখেন ফখরুদ্দিন সন্দেহাতীতভাবে চমৎকার একজন শাসক। বিশেষ করে আগন্তুক এবং দরবেশদেরকে পছন্দ করেন। তিনি বেশকিছু মেঘা প্রজেক্টে হাত দেন। যেমন- হাই ওয়ে, বাঁধ, মসজিদ ও সমাধী সৌধ। শুরুতেই মোবারক শাহ দিল্লী সুলতানাতের তত্ত¡াবধানে যৌথ বাহিনীর আক্রমণে রাজধানী ত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি রাজ্য উদ্ধার করেন। ১৩৪০ সালে তিনি চট্টগ্রাম জয় করেন। এ ক্ষেত্রে বদর উদ্দিন (বদরপীর) অনেক ভক্তক‚লসহ তার পক্ষে যুদ্ধ করেন। তিনি চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ করেন। ১৩৪৮ সালে তার মৃত্যুর পর পুত্র ইখতিয়ার উদ্দিন গাজী শাসক কর্তৃত্ব হাতে নেন।
এদিকে, ১৩৪২ সালে লখনৌতির শাসক আলাউদ্দিন আলী শাহকে হত্যা করে ক্ষমতায় বসেন শামছুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। ১৩৪৬ সালে সাতগাঁও দখল করেন। ১৩৫২ সালে সোনারগাঁ আক্রমণ করে গাজী শাহকে পরাজিত করেন। এতে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার শাসক হন। মূলতঃ এ সময় হতেই এ অঞ্চল বাংগালা নামে প্রসিদ্ধি পায়। তাকে মধ্যযুগের মুসলিম বাংলার ইতিহাসে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের রূপকার বলা যায়। ১৩৫৩ সালে দিল্লীর সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক বাংলায় অভিযানে আসেন। তবে, ১৩৫৪ সালে দিল্লী ফিরে যেতে বাধ্য হন। ১৩৫৮ সালে ইলিয়াস শাহ মৃত্যুবরণ করলে তার সন্তান সিকান্দার শাহ ক্ষমতায় বসেন। চৌকস সিকান্দার শাহ এর সময়ও দিল্লীর সুলতান তুঘলক বাংলা আক্রমণ করেন এবং যথারীতি ব্যর্থ হন। ১৩৮৯ সালে সিকান্দার শাহ নিহত হলে ক্ষমতায় আসীন হন তার ছেলে গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ। সময়ের ব্যবধানে তিনি উজ্জ্বল আলো ছড়ান। জনপ্রিয় এই সুলতান ১৪১০ সালে হত্যার শিকার হন। এক হিন্দু সভাসদ গণেশ ছিল মূল পরিকল্পনাকারী। নিয়ম অনুযায়ী আজম শাহ এর ছেলে হামজাহ্ শাহ্ মসনদে বসে। ১৪১২ সালে একই চক্রের ষড়যন্ত্রে তাকেও খুন করা হয়। তখন শিহাব উদ্দিন বায়েজিদ শাহ্ নামে একজন কৃতদাস ক্ষমতায় আরোহন করেন। তিনি যথারীতি চীনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন।
১৪১৫ সালে তাকেও খুন করে গণেশ ক্ষমতা দখল করে। মুসলমানদের উপর অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে ব্যাপকভাবে। ফলে জৌনপুরের শাসক ইব্রাহীম শর্কি অভিযানে আসেন। বিপদ বুঝে গণেশ তার মুসলমান হওয়া ছেলে জালাল উদ্দিনকে মসনদে বসায়। ফলে ইব্রাহীম শার্কি ফিরে যান। গণেশ আবার ক্ষমতা কেড়ে নেয়। তবে ১৪১৮ সালে গণেশ মারা যায় এবং যথারীতি জালাল উদ্দিন ক্ষমতায় বসেন। তিনি রাজধানী গৌড়ে স্থানান্তর করেন। তিনি সালতানাতকে অন্য উচ্চতায় নেন। ১৪০৩ সালে তার মৃত্যু হলে ছেলে সামছুদ্দিন আহমদ শাহ গদিতে বসেন। ১৩৪৬ সালে ইলিয়াস শাহ এর বংশধর নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহ ক্ষমতায় বসেন। এ সময় খুলনা, বাগেরহাট নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ক্ষেত্রে খাঁন জাহান (রঃ)এর মূল অবস্থান অনস্বীকার্য। ১৩৫৯ সালে মাহমুদ শাহ এর মৃত্যুতে রোকন উদ্দিন বারবক শাহ দায়িত্ব নেন। তার সময়ে বরিশাল ও ত্রিহুত বিজয় হয়। তিনি ১৩৭৪ সালে ইন্তেকাল করেন। এরপর তার পুত্র সামছুদ্দিন ইউসুফ শাহ্ ১৩৪১ সাল পর্যন্ত শাসন করেন। এরপর তার পুত্র ২য় সিকান্দার শাহ কয়েকদিনের জন্য বসেন। সর্বশেষ তাঁর ভাই জালাল উদ্দিন ফতেহ্ শাহ্ ১৪৮৭ সাল পর্যন্ত সুলতান ছিলেন।
১৪৮৭ সালে হাবশিরা ক্ষমতা দখল করেন। ০৪ জন হাবশি সুলতান ০৬ বছর শাসন করেন। ১৪৯৩ সালে আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাদের তাড়িয়ে দেন। প্রজাবান্ধব শাসক হোসেন শাহ ১৫১৯ সালে মারা গেলে ছেলে নসর শাহ্ দায়িত্ব নেন। ১৫৩৯ সালে শেরশাহ্ গৌড় দখল করে নেন। এরপর শুরু হয় আফগান শাসকদের আমল। শেরশাহ্ কিছুদিন দিল্লীর মসনদও দখল করেছিলেন। সে সময় বাংলাও দিল্লী শাসনের অন্তর্ভুক্ত হয়। নানা ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে ১৫৭৬ সাল পর্যন্ত সুলতানী আমল চলে। ঐ বছরের ১২ জুলাই রাজমহলের যুদ্ধে জয়ী হয়ে বাংলায় মুঘল শাসনের সূত্রপাত হয়।
সুলতানী আমলের শাসকগণ সামাজিক পর্যায়ে অনেকেই ইসলামকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। শরীয়ত পরিপন্থি কিছুতে তারা বিতর্কে এড়িয়ে যেতেন। নিজেরা ধর্মীয় নেতার মর্যাদা দাবি করতেন না। অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুভ‚তিতে আঘাত করা হয়নি। বিচার ব্যবস্থা ছিল যথেষ্ট উন্নত। রাজ্যের আয়ের মূল উৎস্য ছিল ভ‚মি কর। তখন থেকে ভ‚মি জরিপ ব্যবস্থা বিকশিত হয়। মসজিদ, খানকা, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনার জন্য ভ‚মি বরাদ্দ দেওয়া হত। সামরিক বাহিনীতে নিয়মিত ও অনিয়মিত সৈন্য ছিল। যুদ্ধের প্রধান অস্ত্র ছিল ঢাল, তলোয়ার, তীর-ধনুক, বর্শা ইত্যাদি। মিন্জালিক নামে এক ধরণের কামানের প্রচলন শুরু হয়। যাতে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। বাংলা যখন দিল্লী সালতানাতের অধীনে ছিল। সুলতানের প্রয়োজনে সৈন্য পাঠাতে হত। নিয়মিত রাজস্ব পাঠাতে হত।
বাংলার সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের দরবারে চীনের স¤্রাট একজন দূত পাঠিয়েছিলেন। সেখানকার দূভাসী মাহুয়ান বাংলার উপর এক মনোমুগ্ধকর বর্ণনা দেন। সে সময় বড় বন্দরগুলো দিয়ে কৃষিজাত পণ্য, বস্ত্র ও নানা প্রকার মসলা রপ্তানী হত। উন্নতমানের সূতা ও কাপড় তৈরি হত। মসলিন কাপড়ের জগৎজোড়া খ্যাতিতো ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে। ইবনে বতুতা ও মাহুয়ান বাংলার সমৃদ্ধির ব্যাপক বর্ণনা দিয়েছেন। বতুতার মতে বাংলার মত এতো সস্তাদরে জিনিসপত্র বিক্রি হতে তিনি আরও কোথাও দেখেননি। কৃষি প্রকৃতি নির্ভর থাকলেও কোন কোন সুলতান খাল খনন করেছেন। কৃষিঋণ চালু করেছেন।
মুসলমানগণ এদেশে সিরিয়া, বাইজেনটাইন, মিশর ও ইরানের স্থাপত্যরীতির মিশ্রিত রূপ নিয়ে আসে। নতুন নতুন শহর, বন্দর ও জনপদের বিকাশ হয়। বাংলার ইলিয়াস শাহী ও হোসেন শাহী বংশের সময়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপত্যশিল্প গড়ে উঠে। এর পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস এবং সুকুমার শিল্পেরও বিকাশ ঘটে। সুলতানগণ আরবি ও ফারসি ভাষায় কাব্য ও ইতিহাস চর্চার পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। বাংলার সুলতানগণ বাংলা ভাষা বিকাশের জন্য হিন্দু, মুসলমান পুথিকার ও কবি-সাহিত্যিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। অসংখ্য স্কুল, কলেজ, মক্তব, মাদ্রাসা এ সময় নির্মিত হয়।
সংক্ষিপ্ত ইতিহাস টেনে আনার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- প্রযুক্তি ন্যূনতম ব্যবহার হলেও শাসক যদি দেশপ্রেমিক ও জনগণের কল্যাণকামী হন তবে সমৃদ্ধির পথে দেশ এগিয়ে যাবেই। এখন জনগণ যদি পরিবর্তন চান, তারা যদি ভ‚মিকা রাখেন, তবে আল্লাহ্ অবশ্যই অবস্থার ভাল পরিবর্তন করে দিবেন।

Tagged with:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*